জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নিজের জীবিত বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলে দাবি করার পর তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে দুঃখ প্রকাশ করে ভুল স্বীকার করেছেন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মুনতাকিম।
গত রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম তাঁর পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার দাবি করেন। সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমপি মুনতাকিম বলেন, “আমার আব্বারা ৭ ভাই, ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জন, ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।” এই বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে তিনি আরও দাবি করেন যে, তাঁর বাবা ও দাদা দুজনেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর দাবির পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁর নির্বাচনি হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি, অর্থাৎ মহান মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির প্রায় ১০ বছর পর। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বয়স ছিল ৪৪ বছর ১১ মাস ২০ দিন। ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া একজন ব্যক্তির পক্ষে ১৯৭১ সালে শহীদের সন্তান হওয়া কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম বিস্ময় ও হাসির খোরাক তৈরি হয়।
প্রকৃত তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিমের বাবা আব্দুল কাদের সৈয়দী এবং মা মোসলমান বেগম দুজনই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন। তাঁরা নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ গ্রামে তাঁদের সংসদ সদস্য ছেলের সঙ্গেই একই বাড়িতে বসবাস করছেন। এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর মুঠোফোনে সরাসরি জানতে চাইলে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম নিজের ভুল স্বীকার করে হুবহু বলেন, “সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সময়ে আমি অসুস্থ ছিলাম। মাথায় ছিল প্রচন্ড ব্যথা। সংসদে কি বলেছি, তা বুঝতে পারছি না। আসলে আমার বাবা বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন আমার দাদা ও চাচা। সংসদে ভুল কিছু বলে থাকলে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”



