পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী (PSO) পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির প্রভাবশালী রাজ্য নেতা ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ‘বাংলাদেশে চলে যাওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের আইন, শাসন ব্যবস্থা এবং সংবিধান না মানলে মমতার এ দেশে থাকা উচিত নয়।
গত বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) এক প্রশাসনিক আদেশে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ২০ বছরের বিশ্বস্ত পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (পিএসও) স্বরুপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে পরিবর্তন করে নতুন তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারের এই আকস্মিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নতুন সরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেন এবং সরকারি নিরাপত্তার পরিবর্তে নিজের অধীনে বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণের সময় পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, “আমাকে সরকার একসময় দু’জন নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছিল, আমি তো চয়েস করিনি। সরকার দিয়েছিল উনারা থাকতেন। তাহলে উনি কেন চয়েস করবেন?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী শাসন আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ যুক্তি দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতাই পুলিশ প্রশাসন ও ওসি বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তিনি বলেন, “উনি যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন উনি এগুলো ঠিক করেছেন কাকে কোথায় পাঠাবেন। ওনার থানা কালীঘাটে কোনোদিন ওসি বদল হয়নি, এয়ারপোর্ট থানায় কোনোদিন ওসি বদল হয়নি। তো এখন যিনি সরকারের নেতৃত্বে আছেন, তারও এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে।” বর্তমান সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন অমান্য করছেন, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “উনি সংবিধান মানবেন না, সরকার মানবেন না। এই দেশে আছেন কেন, চলে যান বাংলাদেশে।” উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগেই নামাজ পড়তে চাওয়া ব্যক্তিদেরও বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন এই বিজেপি নেতা।



