নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় মেঘনার শাখা নদী থেকে লতিফ মোল্লা নামে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম-সংলগ্ন নদী থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে লতিফ মোল্লা নামে ৩২ বছর বয়সী আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে এবং তিনি পেশায় একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন, যিনি মাত্র গত সপ্তাহে দেশে এসেছিলেন। গত মঙ্গলবার দু’গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ নিয়ে গত মঙ্গলবারের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত সর্বমোট তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলো। এদিকে, এই সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ১৬ জুন ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুপক্ষের লোকজন কয়েক ঘণ্টা ধরে রণক্ষেত্রে লিপ্ত হয় এবং এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষের দিনই ঘটনাস্থল থেকে ওসমান মোক্তারের ছেলে ২০ বছর বয়সী অনিক এবং তার পরের দিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে ৩৭ বছর বয়সী কাওসার আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার নদী থেকে প্রবাসী লতিফ মোল্লার মরদেহ ভেসে উঠলে পুলিশ তা উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এ ব্যাপারে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, গতকাল বুধবার রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।



