চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার নামের এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মৃত গৃহবধূর নাম খাদিজা আক্তার, যাঁর বয়স ১৯ বছর। তিনি উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার মোহাম্মদ মারুফের স্ত্রী এবং একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল জলিলের মেয়ে। মাত্র সাত মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পরিবারের অমতে বিয়ে করে খাদিজা তাঁর স্বামীর সাথে বসবাস করে আসছিলেন। গতকাল রাতে হঠাৎ করেই তাঁর স্বামী মোহাম্মদ মারুফ খাদিজাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করার পরপরই তাঁর স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
হাসপাতালে মরদেহ ফেলে রেখে যাওয়ার খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, মৃত খাদিজার গলায় একটি স্পষ্ট দাগ রয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এই ঘটনায় আনোয়ারা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হাসপাতালের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক উপমা চৌধুরী বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাঁর স্বজনদের খুঁজেছি। তবে কাউকে পাইনি।” অন্যদিকে নিহতের ভাই মো. ফরহাদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের ধারণা, খাদিজাকে হত্যার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়।” মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে খাদিজার বাবা আবদুল জলিল বলেন, “সাত মাস আগে আমাদের অমতে মেয়েটি বিয়ে করেছিল। এর পর থেকে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করে আসছিল। আমার মেয়েটি আর দুনিয়ায় নেই। আমরা এমন ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।” ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী মোহাম্মদ মারুফের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সংযোগ পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “গৃহবধূর গলায় দাগ রয়েছে, এটি আঘাত থেকে হতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।”



