ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার অনুমতি দিলেও স্পষ্ট করেছেন যে এটি শত্রুর অবস্থান মেনে নেওয়া নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অনুমতির অর্থ শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়া নয়। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ নেতার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে মোজতবা খামেনির আপত্তি ছিল। তবে ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি শেষ পর্যন্ত এতে অনুমোদন দেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পরিষদের সদস্যরা খামেনিকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা ইরানি জনগণ এবং ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অধিকার পূর্ণভাবে রক্ষা করবেন। মূলত সেই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই খামেনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের প্রশংসা করে খামেনি জানান, সংশ্লিষ্টরা দেশের প্রতি উদ্বেগ ও সদিচ্ছা থেকেই এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সমঝোতার পক্ষে থাকা কর্মকর্তারা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার টেবিলে অতিরিক্ত কোনো ছাড় দাবি করে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। খামেনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হতাশা থেকেই’ এই চুক্তিতে সই করেছেন।
এদিকে ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের (আইএনএসএস) ইরানবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক রাজ জিম্ট এই পরিস্থিতির একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দিয়েছেন। অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খামেনির বক্তব্যকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখা যেতে পারে।” তবে জিম্টের মতে, খামেনি একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখার কৌশলও নিয়েছেন, যাতে আলোচনা ব্যর্থ হলে তার সম্পূর্ণ দায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ওপর বর্তায়। রাজ জিম্ট আরও বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে ইরানের জন্য অনুকূল কোনো চুক্তি হলে খামেনি এর কৃতিত্ব নিতে পারবেন। আবার আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি ও তার সমর্থকেরা দাবি করতে পারবেন যে তিনি কখনোই এ আলোচনা বা চুক্তির প্রকৃত সমর্থক ছিলেন না।”



