রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর এলাকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ট্রাফিক ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিপরীতে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে যে, কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে বর্তমানে সব ক্যামেরা সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটর এলাকায় স্থাপিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ট্রাফিক ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক পোস্টে দাবি করা হয় যে, গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সিগন্যাল এলাকায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল ও স্থগিত হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নানাবিধ ধারণার জন্ম দেয়। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের বা ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে যে, এই ধরনের তথ্য একেবারেই সঠিক নয় এবং সংশ্লিষ্ট সব এআই ক্যামেরা বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ডিএমপির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম বিশ্লেষক শারমিন আফরোজ এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ২৪-কে জানান, কারওয়ান বাজার এলাকায় এআই ক্যামেরা ব্যবস্থার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে এটি কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রম স্থগিতকরণের কারণে ঘটেনি। মূলত ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো-সংক্রান্ত কিছু কারিগরি কাজ চলাকালে ক্যামেরা ব্যবস্থার সংযোগ তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যার ফলে সাময়িকভাবে ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছিল। তিনি আরও জানান যে, প্রয়োজনীয় মেরামত ও কারিগরি ত্রুটি দূর করার পর ক্যামেরাগুলো আবারও সচল করা হয়েছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার এলাকায় তিনটি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে এবং আরও একটি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান আছে। শারমিন আফরোজ বলেন, “এআই ক্যামেরা ব্যবস্থা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে রাজধানীতে ১১০টি এআই ক্যামেরা সচল রয়েছে। আরও ১০টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।”
তবে এই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “ইঁদুরে তার কাটায় দুই দিন বন্ধ ছিল ঢাকার দুই সিগন্যালের এআই ক্যামেরা। যদিও পরে সেগুলো মেরামত করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।” ডিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন যে, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এই এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার পরিধি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।



