২০২৬ বিশ্বকাপে বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড ছয়টি আসরে খেলার অনন্য কীর্তি গড়ার পর, ২০৩০ সালে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ফুটবল ইতিহাসের অসংখ্য রেকর্ডের মালিক লিওনেল মহাতারকা লিওনেল মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে গড়েছেন এক নতুন ইতিহাস। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য রেকর্ড এখন তার নামের পাশে। যদিও এর ঠিক একদিন পরেই পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই রেকর্ডে ভাগ বসান, তবে মাঠের পারফরম্যান্সে মেসিই কেড়ে নিয়েছেন সব আলো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে নতুন করে ফুটবল বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছেন ৩8 বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা, যিনি আর মাত্র চার দিন পরেই ৩৯ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স বর্তমানে ৪১ বছর পেরিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই ফুটবল অঙ্গনে এখন মূল আলোচনা—এই দুই কিংবদন্তি কি ২০৩০ সালের আগামী বিশ্বকাপেও মাঠে নামবেন? পর্তুগাল, স্পেন ও মরক্কোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সেই শতবর্ষী বিশ্বকাপে রোনালদোর খেলা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও মেসি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব ধোঁয়াশা পরিষ্কার করে দিয়েছেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার কোনো ইচ্ছে তার নেই।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ব্যতিক্রমী এবং বৈচিত্র্যময় একটি আসর। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশ এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এই বিশেষ আসরের মূল আয়োজক দেশ হিসেবে থাকছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে শতবর্ষের বিশেষ স্মারক আয়োজন হিসেবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ল্যাটিন আমেরিকার তিন দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। তবে এই মেগা আসর নিয়ে বর্তমানে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না মেসি। ক্লাব ফুটবল, জাতীয় দল কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়—ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রায় সব বড় বড় ট্রফি ও অর্জন ইতিমধ্যেই নিজের ঝুলিতে পুরেছেন এই বাঁ-পায়ের জাদুকর। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকেই তার প্রাপ্তির খাতা সম্পূর্ণ পূর্ণ। তাই বর্তমান সময়ে মাঠে নেমে তিনি যা কিছু অর্জন করছেন, তার সবকিছুকেই ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসে বাড়তি বা বোনাস প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন তিনি। মাঠের বুকে এখনো নিয়মিত গোল করছেন, সতীর্থদের নিয়ে আনন্দে ভাসছেন, আবার কখনো আবেগে চোখ ভেজাচ্ছেন। আর এই কারণেই ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর এখনো আটকে আছে কেবল এই মহাতারকার ওপরেই।
ভবিষ্যতে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ওলে-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “না। এটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।” দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখার মূল রহস্য উন্মোচন করে মেসি তার সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি সবসময় ফুটবলের মধ্যেই বেঁচে থেকেছি। প্রতিযোগিতা করেছি, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছি, যাতে বিশ্বকাপে দলকে সর্বোচ্চ সাহায্য করতে পারি। আমাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। এখানে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জায়গাও সহজে ছেড়ে দেয় না। টিকে থাকতে হলে নিজের সেরা ফর্মে থাকতে হয়। এটাই আমাদের শক্তি এবং সাফল্যের মূল কারণ।” নিজের বর্তমান প্রাপ্তি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে এই কিংবদন্তি আরও বলেন, “ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, ক্লাব, জাতীয় দল ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। তাই এখন থেকে যা কিছু আসবে, সবই আমার কাছে বোনাস।”



