চট্টগ্রামের পটিয়ায় নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু জায়হান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ গভীর রাতে অভিযুক্তদের বাড়িতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল পূর্ব পাড়া এলাকায় এক লোমহর্ষক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। মো. শাহজাহানের ৭ বছর বয়সী শিশু পুত্র জায়হান গত মঙ্গলবার নিজ বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ বা অপহরণের শিকার হয়। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর তার ঘরের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট বা চিঠি পাওয়া যায়। এই চিরকুটের সূত্র ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পটিয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে দীর্ঘ অনুসন্ধান শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার ভোরে নিখোঁজ জায়হানের প্রতিবেশী সাইফুল ইসলামের ঘরের পেছনের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, শিশু জায়হানকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশী ১৯ বছর বয়সী তরুণী সাদিয়া আকতার নিহা, তার ৪৮ বছর বয়সী বাবা এবং ৩৮ বছর বয়সী মা শাহানুর আকতারকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে শিশু জায়হানের বস্তাবন্দি ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। উত্তেজিত এলাকাবাসী আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত গভীর রাতে ক্ষুব্ধ অজ্ঞাতপরিচয় লোকজনের একটি দল অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তবে এই আকস্মিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ঠিক কারা জড়িত, তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছে এবং নতুন কোনো সহিংসতা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানিয়েছেন, মূল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর বিছানায় পাওয়া চিরকুটে হুবহু লেখা ছিল— “তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে, ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন… আধা ঘণ্টার ভেতর ৩ লাখ টাকা আর তোর ফ্যামিলির যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটা ব্যাগে করে তোর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি।” অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, “শিশু জায়হান হত্যার আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদন গ্রহণ করলে রিমান্ডে আনা হবে। তবে আসামিদের ঘরে কারা হামলা করেছে তা জানি না। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এ সংক্রান্তে থানায় একটি পুলিশের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছে।”



