২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত টানা ১৭ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ভয়াবহ পরিকল্পনা এঁটেছিল পাকিস্তান, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মধ্যস্থতা ও অনুরোধের কারণে পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার ও সামরিক বাহিনী এই হামলা থেকে বিরত থাকে।
ঐতিহাসিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল, বৈরী ও সংঘাতপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগামের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বৈসারানে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে ৭ মে গভীর রাতে পাকিস্তান ও আজাদ কাশ্মীরের নয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ভারত। জবাবে ‘অপারেশন বুনয়ান আল-মারসুস’ নামে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসলামাবাদ এবং দুই দেশের মধ্যে আকাশপথে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে ১১টি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল। এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের একপর্যায়ে ভারতের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল পাকিস্তান এবং হামলার জন্য পারমাণবিক অস্ত্র প্রস্তুতও করা হয়েছিল। শুধুমাত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের পক্ষ থেকে গ্রিন সিগন্যাল বা চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষা ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক মার্ক ক্যাপুটোকে দেওয়া ৪৫ মিনিটের ‘অ্যাক্সিওস শো’ নামক এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, পাকিস্তান তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তারা ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়। ট্রাম্পের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই ভারতের ভূখণ্ডে পারমাণবিক হামলা থেকে পিছিয়ে আসেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ট্রাম্প ভারতকে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নিতে আহ্বান জানান এবং তাঁর একক প্রচেষ্টায় ১১ মে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সফল মধ্যস্থতার পর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নিজে স্বীকার করেছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কারণে ৫০ মিলিয়ন বা ৫ কোটি মানুষের জীবন বেঁচে গেছে, যদিও ট্রাম্পের মতে ভারতের দেড়শ কোটি জনসংখ্যার ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় এই সংখ্যাটি আসলে আরও অনেক বেশি হতে পারত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে হুবহু বলেন, “পাকিস্তান আমাকে অনুরোধ করেছিল, যেহেতু তারা আমাদের ঘনিষ্ঠ, যেন আমরা আর কোনো পদক্ষেপ না নেই। আমি বলেছিলাম, আমি তাদের খুব পছন্দ করি। আপনারা জানেন, আমি ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধ থেকে বিরত রেখেছিলাম। দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। কারণ তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।”
তিনি পরিস্থিতি বর্ণনা করে আরও বলেন, “১১টি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছিল। দুই দেশই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। আমি এসবের খবর পাচ্ছিলাম এবং কিছু ভয়াবহ ছবিও দেখেছিলাম। ভারত ও পাকিস্তান অতীতেও যুদ্ধ করেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। উভয় দেশই ব্যাপক পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ছিল এবং তারা সেগুলো ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।”
মার্কিন সামরিক শক্তির সক্ষমতা ও জনসংখ্যার তুলনায় ক্ষক্ষতির হিসাব টেনে ট্রাম্প হুবহু বলেন, “মার্কিন সামরিক শক্তির আসলে কোনো সীমা নেই। বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে আমেরিকার। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। তবে আমার মনে হয় সংখ্যাটা এর চেয়েও অনেক বেশি। শুধু ভারতের জনসংখ্যাই প্রায় দেড়শ কোটি। সেই হিসাবে ৫০ মিলিয়ন খুব বেশি নয়। তাই আমি মনে করি, আমাদের সক্ষমতার কোনো সীমা নেই। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আমাদের।”



