বাংলাদেশ ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য এবং যাত্রী চলাচল আরও সহজ করতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় নতুন করে ৭ থেকে ৮টি আধুনিক আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় এই নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা যাচাই করছে। বর্তমানে রাজ্যটিতে ভারতের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর স্থলবন্দর হলো পেট্রাপোল, যা বনগাঁর কাছে বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত। এই নতুন স্থলবন্দরের জন্য যেসব সম্ভাব্য স্থান বিবেচনায় রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি, উত্তর ২৪ পারগনার ঘোজাডাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি এবং আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া। এসব এলাকায় বর্তমানে সাধারণ স্থল কাস্টমস স্টেশন থাকলেও সেগুলোকে আধুনিক সব অবকাঠামোসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কয়েক মাস ধরে এই প্রকল্পগুলো নিয়ে কাজ করছে ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় জমি সময়মতো না পাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে। সংস্থাটির আশা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়লে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত এই জটিলতা দ্রুত দূর হবে। কলকাতায় শিল্প সংগঠন সিআইআই আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে ভূমি বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জয়ন্ত সিং বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৭ থেকে ৮টি নতুন স্থলবন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি বন্দরের জন্য গড়ে প্রায় ৫০ একর জমির প্রয়োজন হবে এবং তা অবশ্যই সীমান্তবর্তী এলাকাতেই হতে হবে।
একটি আধুনিক স্থলবন্দরে সাধারণত পণ্য পরিবহন ও খালাসের উন্নত সুবিধা, ট্রাক পার্কিং, আধুনিক গুদাম, শীতল সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ, অভিবাসন বিভাগ, কাস্টমস এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেবা একসঙ্গে নিশ্চিত করা থাকে। পশ্চিমবঙ্গে এই উদ্যোগটি মূলত ভারতের একটি বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনার অংশ। দেশজুড়ে আরও ৭৪টি নতুন স্থলবন্দর নির্মাণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে ভারত সরকারের। বর্তমানে পুরো ভারতে ১৫টি স্থলবন্দর কার্যক্রম চালালেও নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ২ লাখ ২৭ হাজার ৫২২ কোটি রুপি। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৮৪৪ কোটি রুপির বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে। তবে স্থলসীমান্ত সুসংগঠিতভাবে ব্যবহার করে আরও প্রায় ৪ লাখ ৪৪ vanity ১৬৭ কোটি রুপির অতিরিক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ভারত সরকার। নতুন এই আধুনিক স্থলবন্দরগুলো নির্মিত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে।



