গাজীপুর মহানগরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের একটি মিছিল থেকে পুলিশকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
গাজীপুর মহানগরে সরকারের নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন যুবলীগের একটি ঝটিকা মিছিল থেকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে সরাসরি হত্যার হুমকি প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। এই গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বাসন থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে মোট ২৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
গত রবিবার (২১ জুন) রাতে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার উপ-পরিদর্শক কাজী সামসুজ্জামান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। দায়েরকৃত এই মামলায় ৬২ জন নেতাকর্মীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এর পাশাপাশি আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, রবিবার ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার অন্তর্গত কলাম্বিয়া গার্মেন্টসের সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে দলবদ্ধ হয়ে একত্রিত হয় এবং একটি মিছিল বের করে। পরবর্তীতে মহাসড়কে টহলরত পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এজাহারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হুমকির বিষয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে মিছিলকারীরা উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে থাকে, “ওই, একটাও সামনে আসবি না। একটাও সামনে আসবি না। মাইরা ফালামু, মাইরা ফালামু। একটাও সামনে আসবি না।” এই ধরনের উগ্র ও আক্রমণাত্মক আচরণের মাধ্যমে পুলিশের সরকারি আইনগত দায়িত্ব পালনে চরম বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।
সমগ্র ঘটনার সত্যতা এবং পুলিশের আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “মামলার পর বাসন, গাছা, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম, পূবাইল, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”



