ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মী ও আইন কলেজের শিক্ষার্থী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় ডিবি সদর জোনের ওসি সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সব পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং একটি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মী ও ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ফরিদপুর ডিবি সদর জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. আলমগীর হোসেনকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই বিশেষ অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির সব পুলিশ সদস্যকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ… সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কেবল ওসিকেই নয়, বরং বিতর্কিত ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির সকল পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুন ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তকে একটি বিশেষ অভিযানে আটক করে ডিবি পুলিশ। এর পরের দিন (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রান্তের মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে ডিবি হেফাজতে বর্বরোচিত পুলিশি নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়েছে যে, প্রান্ত ডিবির হেফাজতে থাকাকালীন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।



