অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তার পদ থেকে হঠাৎ ১৮ জনের পদত্যাগকে ‘টোটালি পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল।বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের ১৮ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেন, যারা সবাই জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাদের নিয়োগ দিয়েছিল। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন। তারা সবাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের কারণ পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারা পদত্যাগ করেছেন, তাদের নিয়োগ এমনিতেই বাতিল বা অপসারণ করা হতো এবং সে কারণেই তারা আগেভাগে পদত্যাগ করেছেন। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ আইন কর্মকর্তা আদেশের অধীনে রাষ্ট্রপতির আদেশে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এই নিয়োগ দিয়ে থাকে। ব্রিফিংয়ে বিএনপির আইন সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, তখনই আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান এবং এটাই নিয়ম। তিনি উল্লেখ করেন, এই কর্মকর্তারা বর্তমান সরকারের অধীনে চার মাস কাজ করে বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবি ব্যবহার করার পর অপসারণের ভয়েই রাজনৈতিক কিছু বিষয় সামনে এনেছেন। তিনি পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তাদের কাজের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বান জানান।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, “ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, আমাদের যে বন্ধুরা পদত্যাগ করেছেন, তারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন। বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন।”
তিনি আরো বলেন, “গতকাল (মঙ্গলবার) তাদের মনে হলো, এখন আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভ (অপসারণ) হবেন। এ জন্য তারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন, যেটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার কথা হচ্ছে, তাদের এই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, যেটা আমরা তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি।”
তিনি বলেন, “সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা কাজ করেছেন বলে মনে হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলেই মনে হয়। এ জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তারা এনেছেন, যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”



