হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি হয়ে প্রায় তিন মাস পলাতক থাকার পর অসুস্থতার ভুয়া চিকিৎসকের সনদ দেখিয়ে কর্মস্থলে যোগদানের চেষ্টা করছেন ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিতর্কিত কোষাধ্যক্ষ ইমরান মেহেদী হাসান।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারীর সূত্রে জানা গেছে, একটি মারধরের মামলায় প্রায় তিন মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত সোমবার (২২ জুন) আকস্মিকভাবে কর্মস্থলে উপস্থিত হন ইমরান মেহেদী হাসান। তবে তার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে জমা দেওয়া অসুস্থতার কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেননি। এর আগে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত ৩০ এপ্রিল ইমরান মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত একজন সংবাদকর্মীকে মারধর করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই কোনো প্রকার ছুটি না নিয়ে দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন তিনি এবং এ কারণে কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইমরান মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে বিতর্কিত। ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে ২০২২ সালের জুলাই মাসে তাকে মাগুরায় বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবারো ময়মনসিংহে ফিরতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার স্বাক্ষর জাল করে নিজের বদলি আবেদনে সুপারিশ তৈরি করার মতো বড় ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেন। ওই জালিয়াতি ধরা পড়ার পর র্যাবের হাতে আটক হয়ে তিনি কারাগারেও ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আবারো ময়মনসিংহে বদলির আদেশ করান। জালিয়াতির মামলা সচল থাকায় তখনকার সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম খান তাকে যোগদান করাতে আপত্তি করলেও, তিনি বদলি হওয়ার পর নতুন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার দিনই ইমরান তড়িঘড়ি করে যোগ দেন। এ নিয়ে ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন সড়কে পোস্টার সাঁটিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল যে ইমরান ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে যোগদান করেছেন, যদিও তৎকালীন সময়ে কালের কণ্ঠের কাছে তারা উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান মেহেদী হাসান বলেন, ‘মামলার আসামি হওয়ার জন্য নয়, আমি অসুস্থ ছিলাম বলে কাজে অনুপস্থিত ছিলাম। অসুস্থতার সনদ জমা দিয়েছি। তবে আজ (২৪ মে) পর্যন্ত আমার যোগদান গ্রহণ করেননি সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত)।’ মামলার বিষয়টি জানতে চাইলে ইমরান বলেন, ‘একটি মামলা হয়েছিল। তবে সেটি বাদীর সঙ্গে মধ্যস্থতা হয়ে গেছে।’
তবে মামলার বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘ইরমানের মামলাটি বাদী তুলে নিয়েছেন বলে আমাদের হাতে কোনো প্রমাণ নেই। এমনকি জামিন পাওয়ার কোনো কাগজ আমাদের হাতে আসেনি। তবে মামলা হওয়ার পর বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’
যোগদানের বিষয়ে সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ইমরান একটি মামলার আসামি। তবে মামলার বিষয়টি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। দীর্ঘদিন ধরে ইমরান কাজে অনুপস্থিত থাকায় তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি কাজে যোগ দিতে চাইছেন। বলছেন অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’



