সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ আটজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘ শুনানি ও ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৭ জনের সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় আদালত সৈয়দ নাইম আহমদ নামের একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর নির্বাচনী এলাকার একটি রাজনৈতিক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। সেই হামলায় যুবলীগের এক কর্মী নিহত এবং অন্তত ২৯ জন গুরুতর আহত হলেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়েছিল। বিচার চলাকালীন এক আসামির মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে মামলার মোট নয়জন আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে, তিনজন জামিনে এবং একজন পলাতক ছিলেন, যেখানে রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সব অভিযুক্ত আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই রায় প্রদান করা হয়েছে।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি আবুল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রায় দিয়েছেন।”



