বিশ্বের ছয়টি দেশের নাগরিকদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে একযোগে ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ বা আগমনের পর ভিসা সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) এক প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নতুন সুবিধার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে এই সুবিধা পেতে হলে যোগ্য আবেদনকারীদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো সদস্য রাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড অথবা কানাডা কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ আবাসিক অনুমতিপত্র (রেসিডেন্স পারমিট) থাকতে হবে। এই শর্ত পূরণকারী পর্যটকেরা আমিরাতে পৌঁছানোর পর ভিসার ধরন অনুযায়ী ১৪ দিন অথবা ৬০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি পাবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমিরাতের পরিচয়, নাগরিকত্ব, শুল্ক ও বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ক ফেডারেল কর্তৃপক্ষ (আইসিপি) ব্যাখ্যা করেছে যে, ১৪ দিনের ভিসার জন্য ১০০ দিরহাম ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যা একবার নবায়নযোগ্য, এবং ৬০ দিনের ভিসার জন্য ২৫০ দিরহাম ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যা নবায়ন করা যাবে না। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশ ত্যাগ না করলে প্রতিদিন ৫০ দিরহাম হারে জরিমানা গুনতে হবে বলে আমিরাত কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “ভিসা-অন-অ্যারাইভাল কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার অংশ। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতেও এটি ভূমিকা রাখবে।”
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, “ভ্রমণকারীদের চলাচল সহজ করা, কনস্যুলার সেবা আরও কার্যকর করা এবং ব্যবসা, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা ও মেধাবী জনশক্তির জন্য ইউএইকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে।”
আইসিপি জানিয়েছে, “নতুন এই সংশোধনী ইউএইর ভিসা কাঠামো আধুনিকায়ন এবং সুবিধাভোগীদের পরিধি বাড়ানোর চলমান প্রচেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে ভ্রমণ, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক গতিশীলতার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে দেশটির সেবাগুলোকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।”



