ঢাকার ধামরাইয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা ও অভিমান করে ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্ট) ক্ষমতার একটি বৈদ্যুতিক টাওয়ারের চূড়ায় উঠে বসেন এক যুবক, যাকে প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অত্যন্ত সতর্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টার পর অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ভাটারখোলা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ও বিপজ্জনক ঘটনাটি ঘটে। টাওয়ারের চূড়ায় উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া ওই যুবকের বয়স ২২ বছর। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর ওপর গভীর অভিমান করে ওই যুবক রাতের বেলা বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি দশতলা ভবনের সমপরিমাণ উঁচু বৈদ্যুতিক টাওয়ারের চূড়ায় উঠে পড়েন। একপর্যায়ে যুবকটিকে বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পরপরই ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে প্রথমে বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি সহায়তায় ওই লাইনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ পৌনে ৩ ঘণ্টার অত্যন্ত সতর্ক ও অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর ওই যুবককে কোনো ধরনের আঘাত ছাড়াই সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যুবকটি টাওয়ারের ওপর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন, যেখানে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত। উদ্ধার কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর ওই যুবককে প্রয়োজনীয় আইনি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধামরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



