কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার তিন যুবক ১৩ দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে নোম্যান্স ল্যান্ডে আটকে থাকা এসব যুবকের মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন গভীর রাতে ভারতের মানকারচর-সোনারপাড়া সীমান্তের ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের পাশ দিয়ে কাঁটাতারের গেট খুলে তিন যুবককে বাংলাদেশের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তে ঠেলে দেয় বিএসএফ। এরপর থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, স্যানিটেশন সুবিধার অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন কীটপতঙ্গের উপদ্রবে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের দাবি, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ মেডিকেল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটকে থাকা তিন যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করুক।
ভুন্দুরচর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান, মুলুক চান, রহম আলী, নাজিম এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, তিন যুবক এখনও ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেই শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তারা দ্রুত দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মানবিক সমাধানের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে রৌমারী হিজলমারী বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার দুলাল সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



