ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৯২০ জনে পৌঁছেছে, নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং প্রশাসনের ধীরগতির উদ্ধারকাজের কারণে উপদ্রুত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস, কাছাকাছি মারাকাই শহর এবং লা গুয়াইরা রাজ্যসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গত বুধবার সন্ধ্যার এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ৭.৫ মাত্রার কম্পনটি ছিল গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬০ জন। দুর্যোগের প্রায় দুই দিন পার হতে চললেও এখনও ১৭২ জন মানুষ সরাসরি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চলছে। এর মধ্যেই শুক্রবার বিকালে কারাকাস ও মারাকাই শহরে ৪.৯ মাত্রার আরেকটি মৃদু আফটারশক অনুভূত হওয়ায় গৃহহীন ও আতঙ্কিত মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দেশটিতে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে নাজুক রূপ ধারণ করেছে। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট এবং প্রশাসনের সীমিত উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। উপদ্রুত এলাকাগুলোয় সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের ধীরগতির পাশাপাশি বিদেশি উদ্ধারকারী দল ও আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছানোর গতি খুবই কম হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। লা গুয়াইরা শহরের ‘হুগো চাভেজ’ নামের একটি আট তলা আবাসন কমপ্লেক্সের নিচে চাপা পড়ে আছেন ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওসের ৬ বছরের ছেলেসহ পরিবারের মোট ছয় সদস্য। ক্ষোভ প্রকাশ করে জেনিফার পালাসিওস বলেন, কেবল স্থানীয় কমিউনিটির মানুষেরাই নিজেদের চেষ্টায় এ পর্যন্ত লোকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য আমাদের ক্রেন দরকার। এখনও অনেক মানুষ ভেতরে আটকে আছে।
এই আকস্মিক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। ক্ষমতাচ্যুত নিকোলাস মাদুরোর সরকারে দীর্ঘদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রদ্রিগেস বর্তমানে নিজেকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দূত হিসেবে দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সমন্বয়ে সরকারের ব্যর্থতা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে সংকটে ফেলতে পারে। বর্তমানে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে নিখোঁজ ৫০ হাজার মানুষের স্বজনেরা ধ্বংসস্তূপের পাশে প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।



