সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্থানীয় তাঁত শিল্প, যার প্রতিবাদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন তাঁতকল মালিক ও শ্রমিকরা।শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রায়গঞ্জ পৌরসভার পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকা থেকে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা একটি সমাবেশ করেন এবং লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়ে তারা তাদের এই সমাবেশ সমাপ্ত করেন।
আন্দোলনরত তাঁতকল মালিক ও শ্রমিকদের মূল অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁতকলগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে তাঁতকলগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এর ফলে মালিকরা যেমন ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, তেমনি শ্রমিকদেরও কাজের সুযোগ ও আয় কমে যাচ্ছে।
সমাবেশে পূর্ব লক্ষ্মীকোলা এলাকার তাঁত মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করে মো. মোত্তাকি বলেন, ‘ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তাঁতকলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সময়মতো অর্ডারের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে মালিক-শ্রমিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুধু তাঁত শিল্পই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যায় শুধু তাঁতকল নয়, সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজও ব্যাহত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।’
এই সার্বিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভের বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের ভূঁইয়াগাঁতী জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. নিজামুল ইসলাম তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভের সময় আমি কার্যালয়ে ছিলাম না। তবে বিক্ষোভকারী মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছি।’ বিদ্যুতের সমস্যার কারণ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘তাঁতকলের সংযোগ লাইনটি অনেক পুরনো হওয়ায় অধিকাংশ সময় নানা ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়।’



