চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবার লাশ দাফনের জন্য কবর খনন করতে গিয়ে প্রতিবেশীদের দেশি অস্ত্রের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন সন্তান ও তার স্বজনরা, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. নুরুল ইসলাম নামের এক প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে আনোয়ারা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের দইয়া মাঝির নতুন বাড়ি এলাকা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. নুরুল ইসলাম (৫৬) বরুমচড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। মামলার এজহারের তথ্য ও নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন সকাল সাড়ে ৫টার দিকে নিজেদের পারিবারিক কবরস্থানে নিজ বাবার মৃতদেহ দাফন করার উদ্দেশ্যে কবর খনন করতে যান মো. ওসমান গনি (৪৯) ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ঠিক সেই সময় প্রতিবেশী অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আকস্মিকভাবে কবরস্থানের জায়গাটি নিজেদের বলে দাবি তুলে মৃত ব্যক্তির দাফনকার্যে ও কবর খননে তীব্র বাধা প্রদান করেন।
কবর খননে বাধা দেওয়ার এই অন্যায় ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালে মো. ওসমান গনি, তার আপন বোন নার্গিস আক্তার (৪০) এবং তাদের পাশে থাকা অন্য স্বজনদের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশি ধারালো অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। প্রতিবেশীদের এই হামলায় তারা সবাই শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ও রক্তাক্ত জখম হয়ে আহত হন। হামলার পাশাপাশি ওই সময় নার্গিস আক্তারের শরীরে থাকা মূল্যবান স্বর্ণালংকারও জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এই অমানবিক ও জঘন্য ঘটনার পর গুরুতর আহত ওসমান গনি নিজে বাদী হয়ে গত ২২ জুন আনোয়ারা থানায় পাঁচজনকে সুনির্দিষ্টভাবে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী মামলার সার্বিক অগ্রগতি ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘মামলার এজাহার পাওয়ার পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’



