নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর সরকারি ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নিজের মেয়ের নাম দুবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ায় জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল সরকারি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। জানা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের হিসাব শাখা থেকে গত ১৪ জুন জারি করা এক সরকারি চিঠিতে ২০check-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই অনুমোদিত অনুদানপ্রাপ্ত দরিদ্র ও দুস্থদের তালিকার মধ্যে ‘ফাইজা’ নামে দুটি স্থানে নাম রয়েছে, যার একটিতে পিতার নাম হিসেবে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে অর্থাৎ মোট ২০ হাজার টাকা অনুদান বরাদ্দ দেখানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, তালিকায় থাকা এই দুটি নামই মূলত খোদ সংসদ সদস্যের নিজের মেয়ের।
সরকারি নথি ও তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার জন্য প্রণীত উক্ত তালিকায় সর্বমোট ২১ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে নজিরবিহীনভাবে সংসদ সদস্যের নিজ গ্রামেরই ৯ জন এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়া ইউনিয়ন থেকে ৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু হুবহু বলেন, ‘আমার স্বাক্ষর করা প্যাডে পিএস তালিকা তৈরি করেছে। বিষয়টি ফেসবুকে দেখার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আমার সন্তানের নামে টাকা নিতে চাই না। নতুন একটি তালিকা করেছি, সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান দিতে বলেছি।’ তিনি আরও দাবি করেন যে, অতীতে তাঁর ঐচ্ছিক তহবিল খাতে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও চলতি অর্থবছরে তা কমে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকায় নেমে এসেছে এবং হঠাৎ করেই তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস তাঁকে দ্রুত তালিকা জমা দেওয়ার কথা জানালে তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করতে বলেছিলেন।
তবে সংসদ সদস্য তালিকা সংশোধনের কথা বললেও আইনি জটিলতার কথা জানিয়েছেন নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও টি এম রাহসিন কবীর। তিনি হুবহু বলেন, ‘সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরকেই অনুদান দিতে হবে। তালিকার বাইরে নতুন কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। নির্ধারিত ব্যক্তি অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সংসদ সদস্যের আধাসরকারি পত্র বা ডিও লেটারের ভিত্তিতে যে তালিকা জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একবার অনুমোদিত হয়ে এসেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সেই তালিকার বাইরে গিয়ে নতুন করে অন্য কাউকে অনুদান দেওয়ার আর কোনো আইনি সুযোগ নেই।



