কুমিল্লায় মো. বাহার (৩২) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিয়ে নিজেই পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন প্রতিবেশী এক নারী। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ঝুমুর নামের ওই অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কুমিল্লার লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকালে জেলার লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত বাহার ওই এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে। অন্যদিকে আটক হওয়া ঝুমুর একই এলাকার প্রতিবেশী রাসেল মিয়ার স্ত্রী।
লালমাই থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বাহারকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান প্রতিবেশী ঝুমুর। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ড সম্পন্ন করার পর অভিযুক্ত ঝুমুর নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন এবং পুলিশকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের অনুরোধ জানান। ৯৯৯ থেকে বার্তা পেয়ে লালমাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত বাগমারা উত্তর ইউনিয়নের দত্তপুর পূর্বপাড়া এলাকায় পৌঁছায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাহারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঝুমুরকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, আটক হওয়া ওই নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন যে নিহত বাহার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল। নিজেকে রক্ষা করতে তিনি বাহারের মাথায় ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করতে বাধ্য হন। ওসি আরও জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টার এই দাবি সত্য নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পরকীয়া বা পূর্বশত্রুতার জের রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করতে অভিযুক্ত নারীকে থানা হেফাজতে নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



