ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর গুচ্ছগ্রামে গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ৬০টি পরিত্যক্ত ঘর এখন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এসব পরিত্যক্ত ঘরে ইয়াবা ও গাঁজার আসর বসে এবং গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা।
সরেজমিনে জানা গেছে, গুচ্ছগ্রামটিতে মোট ১৬০টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১০০টিতে স্থানীয় পরিবারগুলো বসবাস করছে। বাকি ৬০টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এই ঘরগুলোই এখন মাদকসেবীদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবীরা এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হয়। শুধু স্থলপথ নয়, পাশে থাকা পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে তাদের যাতায়াত রয়েছে। নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই মাদক আনা-নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইসলাম শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদক সেবন করে। নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ ওই দিকে যেতে ভয় পায়। স্থানীয় বাসিন্দা আম্বিয়া বেগম বলেন, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছেলে-মেয়েদের বাইরে যেতে দিই না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম বেপারী গুচ্ছগ্রামের এই দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার তুলে ধরেছি। নিয়মিত অভিযান চালানো হলে সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। এ বিষয়ে ফরিদপুরের সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।



