জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে যাওয়ার সময় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি আমলে তিনি বেশি মারধরের শিকার হয়েছেন।
জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি বা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা আনোয়ার হোসেনের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার (২৮ জুন) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ রিমান্ড আদেশ দেন। এর আগে গত ২২ জুন সোমবার প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা অন্য একটি মামলায় একই আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন।
রিমান্ডের আদেশ শেষে আদালত থেকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আনোয়ার হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার অপরাধ আমি জুলাই যোদ্ধা। আমার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে বিএনপি নেতা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির খাস লোক বিএনপি সভাপতি মিঠু। আমারে মারধর করলে যখন ঘরে দৌড়ে পালাই, তখন মিঠু এক হাজার লোক নিয়ে আমার বাড়ি ঘেরাও করে।’
অন্য কোনো জুলাই যোদ্ধাকে গ্রেপ্তার না করে শুধু আপনাকে কেন করা হচ্ছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, ‘আমাকে দিয়ে শুরু করছে। আমি এ্যানি চৌধুরীর যত অন্যায়-দুর্নীতি সব তুলে ধরেছি। আওয়ামী লীগের সময়ও এসব অন্যায়-দুর্নীতি তুলে ধরছি, তখনও হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু বিএনপি আমলে আরও বেশি হয়েছি। বিএনপি আমারে অতিরিক্ত মারছে। বিএনপি আমার মা, বউ, ভাই সবাইরে মারছে এবং ভাইয়ের ঘর ভাঙচুর করছে।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে সাংবাদিকরা তাঁর কাছে জানতে চান, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না?’ জবাবে আনোয়ার হোসেন নিজের অবস্থান ধরে রেখে বলেন, ‘এটা আমার বাকস্বাধীনতা, বলতেই পারি।’ তবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এগুলো মিছা কথা।’



