ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তাসহ রংপুরের অন্যান্য নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে তিস্তা অববাহিকার ৫টি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা ও নদীভাঙনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন। আজ রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি একলাফে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার মাত্র ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। উজানের এই ঢলের প্রভাবে তিস্তার পাশাপাশি রংপুরের ঘাঘট ও যমুনেশ্বরী নদীর পানিও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ব্যাপক ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবং আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ রবিবার ও আগামীকাল সোমবার রংপুর বিভাগেও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় তিস্তা নদীতে বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি ওঠানামা করায় নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে তিস্তার ভাটিতে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দারা আকস্মিক বন্যা ও নদী ভাঙনের তীব্র আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে কোনো মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি নেই। কিন্তু পানি যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে লোকালয়ের ঘরবাড়ি ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানান, রংপুরের তিস্তা নদীর পানি আগামী ৩ দিন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা ও ভাঙন মোকাবিলায় আগাম প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এই সতর্কবার্তা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।



