জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেকোনো মূল্যে জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
জাতীয় সংসদে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেন। তিনি তার বক্তব্যে সরকারের রাজনৈতিক দর্শন, অর্থনৈতিক লক্ষ্য এবং বৈদেশিক সফরের সাফল্যসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া পবিত্র আমানত ও আস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশের অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীদের কবল থেকে মুক্ত করে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তব্যে এবারের জীবনবান্ধব বাজেটের অন্যতম প্রধান তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। প্রথমত, দরিদ্র, নিম্নআয় ও ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার বোঝা যতটুকু সম্ভব লাঘব করা। দ্বিতীয়ত, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ক্ষতবিক্ষত করা দেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। তৃতীয়ত, বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের চাকা সচল এবং বেগবান করা। এই প্রসঙ্গে গত সপ্তাহে নিজের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পর্যালোচনা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার বর্তমান অর্থনীতি ও বিনিয়োগের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছে। দেশের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্যউন্নয়নে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সংসদ নেতা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের আগে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর বিশদ আলোচনা ও নিজস্ব বক্তব্য প্রদান করেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সংসদের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী পরবর্তীতে ৩০০ বিধিতে একটি বিশেষ বিবৃতি প্রদানের জন্য স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীর বিক্রম) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি প্রার্থনা করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলের আসনগুলোয় সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকার মসজিদ, কবরস্থান এবং ঈদগাহের জন্য মঞ্জুরি বরাদ্দ করেছেন।” এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও আশ্বস্ত করেন যে, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে দেশের সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও সমহারে বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা হবে।



