সুদের পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে টানা তৃতীয় দিনের মতো দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
চলতি ২০২৬ সালের ৩০ জুন মঙ্গলবার সকাল ৯টার সময় সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি ও ধরন্তি গ্রামের লোকজনের মধ্যে এই ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিন দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে আজ সকালের সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও ঘরবাড়িতে ভাঙচুরসহ ব্যাপক হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রভাবে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার মূল সূত্রপাত সুদের পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে। সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী ধরন্তি গ্রামের বাসিন্দা মো. খাদিমের কাছে সুদের ১ লাখ টাকা পাওনা আছেন বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিলেন। তবে মো. খাদিম ওই সুদের টাকা দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানালে গত রবিবার (২৮ জুন) রাতে উভয় গ্রামের বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রথম দফায় মারাত্মক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই প্রথম রাতের সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মো. খাদিম নিহত হন।
খাদিমের হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গতকাল সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে নিহত খাদিমের জানাজা নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই ক্ষুব্ধ দুই পক্ষ পুনরায় দ্বিতীয় দফায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা সেই দ্বিতীয় দিনের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়াসহ পুলিশের অন্তত ২৫ জন সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আহত হন। পূর্বের সেই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষোভ ও উত্তেজনার জের ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে তৃতীয় দিনের মতো পুনরায় কালিকচ্ছ বাজারে দুই গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সরাইল উপজেলার বর্তমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া আজ দুপুরে জানান, সকাল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কালিকচ্ছ বাজারসহ সংশ্লিষ্ট সংঘাতপূর্ণ ঘটনাস্থলগুলোতে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



