মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি বসতবাড়ির উঠানে মাটির নিচে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পুঁতে রাখা ১,১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জঘন্য মাদক কারবারের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সিদ্দিক বেপারী (৪০) নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
আজ ২০২৬ সালের ৩০ জুন মঙ্গলবার সকালের দিকে শিবচর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল শিবচর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত স্বাস্থ্য কলোনি এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। আটককৃত মাদক কারবারি সিদ্দিক বেপারী ওই একই এলাকার বাসিন্দা কাদির বেপারীর ছেলে।
শিবচর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কলোনি এলাকায় সিদ্দিকের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান মজুত থাকার একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্দিকের বাড়িতে ঘেরাও করে অভিযান চালায় এবং তাকে প্রথমে আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্দিকের দেওয়া সুনির্দিষ্ট ও চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে তার বসতবাড়ির উঠানের এক কোণে মাটির নিচে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো মোট ১,১৬৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ধারণা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক নিরাপদ রাখার অভিনব কৌশল হিসেবে এই ইয়াবাগুলো মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।
এদিকে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আটক সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় প্রকাশ্যেই বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তার এই সর্বনাশা মাদক কারবারের কারণে এলাকার স্কুল-কলেজগামী তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ মারাত্মকভাবে মাদকের করাল গ্রাসে ঝুঁকে পড়ছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। গ্রামবাসীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এর আগেও সিদ্দিক মাদকের মামলায় একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তীতে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই মাদক ব্যবসায় লিপ্ত হয়। তারা এবার আটক সিদ্দিকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
উদ্ধার ও আটকের পুরো বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উঠানে পুঁতে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হাতেনাতে একজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং আমাদের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বড় ধরনের মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ পরবর্তী কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’



