অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীসহ শহুরে এলাকায় বসবাসরত অনেকেই ভোট দিতে নিজ এলাকায় যাচ্ছেন। প্রার্থী, কর্মী–সমর্থক ও স্বজনদের নির্বাচনী ব্যয়ের কারণে সারা দেশে নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। এর প্রভাবে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে ব্যাংকের বাইরে নগদ অর্থ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরিমাণটি বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা—অর্থাৎ দুই মাসে বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।
নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। ব্যাংক ও এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সিটি ব্যাংকের ডিএমডি অরূপ হায়দার জানান, জানুয়ারির তুলনায় চলতি মাসে তাঁদের ব্যাংকে নগদ উত্তোলন ১৯ শতাংশ বেড়েছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুব রহমান বলেন, নির্বাচনী ব্যয়ের কারণে টাকা উত্তোলন বেড়েছে, তবে এই অর্থ আবার ব্যাংকে ফিরে আসবে।
এদিকে, ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ জমা বা উত্তোলনে তদারকি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হচ্ছে।
নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায়ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিকাশ, রকেট ও নগদসহ এমএফএসে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন এবং প্রতি লেনদেনে এক হাজার টাকা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাময়িক চাঙা ভাব দেখা যাচ্ছে।



