ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব সম্প্রদায়ের মানুষ জিম্মি ছিল এবং তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা সুব্রত চৌধুরী।
২০২৬ সালের ৩ জুলাই (শুক্রবার) ফেনী শহরের ঐতিহ্যবাহী জয়কালী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফেনী জেলা শাখা আয়োজিত দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। সুব্রত চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ড. ইউনূসের আমলে শুধু ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ই নয়, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও বিভিন্নভাবে হামলার শিকার হয়েছেন। ওই শাসনামলে দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেনি, বহু মানুষের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
সম্মেলনে বিগত সরকারের আমলের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, সেই সময়ে বাউলদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও মাজারে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নারী এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চরমভাবে অপমান ও পদদলিত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় ও সাক্ষী হয়ে থাকবে। এমনকি যে ছাত্ররা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল, ড. ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে সেই ছাত্রদেরও নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী আক্ষেপ প্রকাশ করে সমবেত নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাইনি। ওনার (ইউনূস) শাসন যদি দীর্ঘায়িত হতো, তবে দেশটা পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত হতো।”
বক্তব্যের শেষ অংশে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ রাষ্ট্রের যত সামাজিক নিরাপত্তা খাত রয়েছে, সেগুলোতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনের বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপারসহ (এসপি) প্রশাসনের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের নিয়োগ ও রদবদল হলেও সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো যোগ্য কর্মকর্তাকে রাখা হয়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কি তবে ঘুরেফিরে আবার সেই ইউনূস সরকারের শাসনামলের দিকেই চলে যাচ্ছি?”
ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরালাল চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অনিল নাথের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু।
সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ডি. এন. চ্যাটার্জী, ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু, সাংগঠনিক সম্পাদক কিশোর কুমার বসু রায় চৌধুরী, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রিয় রঞ্জন দত্ত, ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক এয়াকুব নবী, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছালাহ উদ্দিন মামুনসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



