দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (Labour Room) স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে মানসম্মত লেবার রুম থাকা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না। প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। মশার লার্ভা ধ্বংসে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইড ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য দেশের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মোবাইল মেডিকেল সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। কিছুদিন স্যালাইনের সংকট থাকলেও বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া কোনো ডেঙ্গু রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের ঝুঁকি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় দেশে বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিও সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার নারী, যাদের অধিকাংশই মিডওয়াইফারি কর্মী হিসেবে নিয়োগ পাবেন। এর মাধ্যমে মাতৃস্বাস্থ্য ও নবজাতক সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।



