উড়িষ্যা ও দক্ষিণ ঝাড়খন্ড এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নগরের ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতা পূর্ববর্তী রোববার রাত থেকেও শুরু হয়েছিল।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড়, টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়, মতিঝর্ণা, লালখান বাজারের পোড়া কলোনি, ঢেবারপাড়, আমবাগান এবং উত্তর হালিশহর উপকূলসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরের সব স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি পাহাড়সংলগ্ন স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি দল মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।



