টানা ভারী বর্ষণের জেরে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় একটি মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানা মাটির নিচে চাপা পড়ে আট শিশুশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত ‘খাদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানা’য় বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ২টার দিকে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় মাদ্রাসাটির ভেতরে ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী এবং এর চেয়ে কিছুটা বেশি বয়সী মেয়েশিশুরা পবিত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছিল। গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দুপুরে হঠাৎ করেই পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে মাদ্রাসার ওপর আছড়ে পড়ে এবং পুরো ঘরটি মাটির নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য, স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে এবং সিসিসিএমের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় টানা চার ঘণ্টা ধরে চলা উদ্ধার অভিযানটি বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষ হয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান দুর্ঘটনার সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্প-৫ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জন শিশু দুর্ঘটনাস্থলেই মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যায় এবং অপর চার জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অলৌকিকভাবে ১৩ শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এই ১৩ শিশুকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্যাম্প-৩-এর জিকে হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত আট শিশুর মধ্যে চার জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলো— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) এবং উমাইসা বিবি (১৩); তবে বাকি চার শিশুর নাম-পরিচয় এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে উখিয়ার ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি ও কমান্ডিং অফিসার মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, “ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পড়ে। সে সময় সেখানে ২০ জনের বেশি শিশু কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান ইতিমধ্যে সফলভাবে শেষ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত মোট আট জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এপিবিএন সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন এবং পুরো উদ্ধার কার্যক্রমটি আরআরআরসি কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতে সম্পন্ন হয়েছে।



