টিকটকে নিজেকে ‘এক নম্বর’ ব্যক্তি দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তার এই দাবি বাস্তব তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনিই টিকটকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। বক্তব্যের সময় তিনি মজার ছলে টিকটককে ‘টিক ট্যাক’ বলেও উল্লেখ করেন। তবে এর আগের দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা তথ্যচিত্রে এমন দাবি করা হয়নি।
প্রকাশিত তথ্যচিত্রে ট্রাম্পকে টিকটকে সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা ও সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ এই তুলনা কেবল বিশ্বনেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে সংগীতশিল্পী বা অন্যান্য সেলিব্রিটিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে টেইলর সুইফট ১১তম অবস্থানে রয়েছেন—এমন কোনো তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের পক্ষে উল্লেখ করা ৪২৫ বিলিয়ন ভিউ মূলত #Trump হ্যাশট্যাগযুক্ত ভিডিওগুলোর মোট ভিউ। এতে ট্রাম্পের নিজস্ব ভিডিও ছাড়াও সাধারণ ব্যবহারকারীদের তৈরি সমর্থনমূলক, নিরপেক্ষ এবং সমালোচনামূলক সব ধরনের ভিডিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এই সংখ্যা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার সরাসরি সূচক নয়।
অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকেও ট্রাম্প টেইলর সুইফটের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে টিকটকে ট্রাম্পের অনুসারী প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ, আর টেইলর সুইফটের অনুসারী প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ, যা ট্রাম্পের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
অন্যদিকে, টিকটকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা কনটেন্ট নির্মাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন খাবি লেইম। এরপর রয়েছেন চার্লি ডি’অ্যামিলিও এবং মি.বিস্ট।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প টিকটকের চীনা মালিকানা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও মন্তব্য করেন। তবে প্রকাশ্যে থাকা তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও টিকটকের সব ব্যবহারকারী বা সেলিব্রিটিদের মধ্যে ‘এক নম্বর’—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।



