প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতায় পৌঁছেছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় বলা হয়েছে, ভারতীয় ব্রহ্মোস ও অস্ত্র (অস্ত্রা) ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে উভয় দেশ একমত হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, কৃষি এবং চিকিৎসা পণ্যের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সার খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন দুই দেশের নেতারা।
বৈঠকে সমুদ্র ও আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে নতুন বিমান যোগাযোগ চালু এবং বন্দর-থেকে-বন্দর সংযোগ বাড়াতে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো সাবাং বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতের অংশীদার হওয়ার আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন। দুই দেশের নেতারা বলেন, আন্দামান সাগর এলাকায় সমুদ্রভ্রমণ, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত, সামুদ্রিক শিল্প এবং উপকূলীয় জ্বালানি সহায়তা খাতে সহযোগিতা বাড়লে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাবাং বন্দর প্রকল্পের পরিধি, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং অর্থায়নের বিষয় দ্রুত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিজিটাল অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভারতের উন্মুক্ত ডিজিটাল বাণিজ্য নেটওয়ার্ক (ওএনডিসি)-এর আদলে গড়ে ওঠা ইন্দোনেশিয়া ওপেন নেটওয়ার্ক (আইওএন) চালুকেও স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ।
এ ছাড়া ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক ও ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সীমান্ত-পার কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থার অগ্রগতিকে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, এ উদ্যোগ লেনদেন আরও সহজ করবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, পর্যটন ও শিক্ষার্থী বিনিময়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি ও সেবা খাতে সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে দুই দেশ।



