চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়ার কারণে বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কপথে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের অনবরত ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যার পানির প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে সকালের দিকে দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকার সেতুটি আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। সেতুটি ভেঙে পড়ার সাথে সাথেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করে এই সেতুটি ধসে পড়ায় যারা কর্মস্থল, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসা বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করছিলেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। পারাপারের কোনো মাধ্যম না থাকায় এই অঞ্চলের জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষুব্ধ ও ভুক্তভোগী অধিবাসীরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে বিকল্প উপায়ে পারাপারের সাময়িক ব্যবস্থা করা এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সেতু ধসে পড়ার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ধসে পড়া সেতুর কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই দুই পার্বত্য জেলার মধ্যকার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনঃস্থাপন করতে বিকল্প যোগাযোগ বা বেইলি ব্রিজ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় ও জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



