হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খোলা হয়েছে। এবার দানবাক্সগুলো থেকে চার বস্তা টাকা উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় টাকা গণনার কাজ চলছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সগুলো মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে খোলা হয়। উদ্ধার হওয়া চার বস্তা টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে লাল রঙের নোটের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
টাকা গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত রয়েছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।
এর আগে গত ১২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শনের পর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন এবং ঐতিহাসিক তিনটি ডেক সিলগালা করা হয়।
পরবর্তীতে ২২ জুন প্রথম দফায় চার দিনে সংগৃহীত ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা গণনা করে সোনালী ব্যাংকের বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। সেই সময় ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য ছিল।
বর্তমানে মাজারের দানবাক্স ও ডেকের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
প্রথমবার দানবাক্স খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিলেটজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে সরকার বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক ও স্বচ্ছ করার সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।



