তাইওয়ান ও জাপানে তাণ্ডব চালানোর পর চীনে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বাভি’। শক্তিশালী এই টাইফুনের প্রভাবে ফিলিপাইনে ভারী বর্ষণ ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে ঝড়ের গতিপথে থাকা প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) ঘূর্ণিঝড় বাভি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে আঘাত হানে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড় আঘাতের পর তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে উত্তর তাইওয়ান ও জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় দ্বীপগুলোতে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়টি। সেখানে বহু গাছপালা উপড়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
ঘূর্ণিঝড় বাভির প্রভাবে ফিলিপাইনে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের বাসিন্দা। দেশজুড়ে প্রায় ১১ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি বন্দর এখনো বন্ধ রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রথম আঘাত হানে বাভি। তখন বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। ইউহুয়ান শহরে আঘাতের পর তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইউয়েকুয়িং শহরে ভেঙে গেছে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি গাছ।
রোববার সকালে ঝড়ের কেন্দ্র ঝেজিয়াংয়ের রাজধানী হাংঝুর কাছাকাছি পৌঁছায়। দেশটির আবহাওয়া কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
এদিকে, চীনে গত সপ্তাহের বৈরী আবহাওয়ায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ক্রান্তীয় ঝড়কে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এর ফলে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।



