অতিবৃষ্টির জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের আট বিভাগের মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি ঢাকার লেক সংস্কার ও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২৬ সালের ১২ জুলাই, রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সভায় দেশের আট বিভাগের কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি, উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা সভার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা গণমাধ্যমকে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষের কাছে দ্রুততম সময়ে ত্রাণ, শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মাঠ প্রশাসনকে বলেছেন যে, দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি বা ত্রাণ আত্মসাতের মতো জঘন্য অপরাধ করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে হবে।
একই দিন বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রাজধানীর ধানমন্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার এবং স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনসংক্রান্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন এই বৈঠকের তথ্যাদি নিশ্চিত করে জানান, বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডি লেক সংস্কার, নজরুলসরোবর নির্মাণ এবং সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানানো হয়। একই সঙ্গে গুলশান ও বারিধারা লেকের সঙ্গে সংযুক্ত সব ধরনের অবৈধ বর্জ্য নির্গমন লাইন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ করার এবং রাজউকের নেতৃত্বে গুলশান লেকের পরিবেশগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া গতকাল সকালে একই স্থানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার এবং দক্ষিণ সিটির মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি পরিবেশবান্ধব মেগা প্রকল্প নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি পৃথক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন জানান, চীনের সিএমইসি গ্রুপ আমিনবাজারে একটি প্রকল্প নির্মাণ করবে, যা প্রতিদিন তিন হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানি মাতুয়াইলে আরেকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে, যেখান থেকে বছরে ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস এবং প্রায় ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই পরিবেশবান্ধব প্রকল্প দুটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমন্বিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের তাগিদ ও নির্দেশ দিয়েছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, ঢাকার দুই সিটির প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



