টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে রাঙ্গামাটি শহরের তবলছড়ির ওমদামিয়া এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজস্থলী, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়েছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ির দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তীব্র পানির স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার সংকটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে উঠলেও এখনও বহু পরিবার নিজ বাড়িতে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি বলেন, ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।



