ঢাকার সচিবালয়ের পাশের ফুটপাতে কোমরে রশি বেঁধে রাখা আড়াই বছরের শিশু মেহেদীর বন্দি শৈশবের অবসান ঘটিয়ে তার পরিবারকে এক নতুন আলোর পথ দেখিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
দীর্ঘদিন ধরে সচিবালয়ের পাশের ফুটপাতে শিশু মেহেদীর কোমরে রশি বেঁধে রেখে তার মা মুক্তা বেগম প্লাস্টিকের বোতল কুড়ানোর কাজ করতেন। সন্তানকে এভাবে বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে মা মুক্তা বেগম অশ্রুসজল চোখে বলেন, “কী করতাম! বোতল টুকাইতে গেছি। পুলাডা রাস্তার দিকে দৌড় দেয়। গাড়ি-ঘোড়ার ভয়ে বাইন্দা যাওন ছাড়া উপায় আছে? পুলাডার খাওন হয় না। সারা দিন এহানে শুইয়া–বইসা থাহে। আমি বোতল টুকাইয়া দশ টেহা, বিশ টেহা পাই। কেউ কিছু দিলে খাওয়াইতে পারি, না দিলে না খাইয়্যা থাহে।”
মুক্তা বেগমের মূল বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর প্রথম স্বামীর ঘরে দুই ছেলেমেয়ে থাকলেও দ্বিতীয় সংসারের একমাত্র সন্তান এই মেহেদী। তবে মেহেদী জন্ম নেওয়ার আগেই তাঁর দ্বিতীয় স্বামী তাকে ফেলে চলে যান। ফলে আড়াই বছরের এই শিশুটিকে নিয়ে ঢাকার ফুটপাতে চরম অসহায়ত্বের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবনসংগ্রাম করছিলেন এই নারী।
মেহেদীর এই বন্দি শৈশব ও পরিবারের চরম দারিদ্র্যের খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে নজরে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি শিশু মেহেদীর সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার পড়াশোনার সম্পূর্ণ আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
একই সঙ্গে মা মুক্তা বেগমের স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি করতে একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মুক্তা বেগমের বড় ছেলেকে মাদকাসক্তি থেকে ফিরিয়ে এনে সুস্থ করার পর তার জন্যও একটি ভালো কর্মসংস্থানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন সংসদ সদস্য। ফুটপাতের অবর্ণনীয় কষ্ট আর কোমরের নির্মম দড়ির বাঁধন ছিঁড়ে আড়াই বছরের মেহেদী ও তার অসহায় পরিবার এখন এক নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে।



