সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা মাত্রই গ্রেপ্তার করা হবে এবং তাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের ছবিযুক্ত প্রমাণপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় নথির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
সাবেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত অন্য আসামিদের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দেশে ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সদিচ্ছার একান্ত প্রয়োজন রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে পলাতক হিসেবে অবস্থান করছেন এবং সেখানে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো অফিশিয়াল স্ট্যাটাস (দাপ্তরিক পদমর্যাদা) নেই। এ ছাড়া তাঁর কাছে বর্তমানে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট (ভ্রমণ নথিপত্র) না থাকায় তাকে দেশে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অবশ্যই ছবিযুক্ত প্রমাণপত্র গ্রহণ করতে হবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ সফর এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নতুন কোনো দেশ সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি আরও জোরালোভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে শামা ওবায়েদ অভিযোগ করে বলেন, “বিগত ১৭ বছরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি সুপরিকল্পিতভাবে জিইয়ে রেখে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই সমস্যা সমাধানে সরকারি-বেসরকারি এবং কূটনৈতিক ও অকূটনৈতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চ্যানেলে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা জোরালোভাবে চলমান রেখেছে।”



