নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দেশব্যাপী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপি এখন অপকর্মের দিক থেকে আওয়ামী লীগের রিপ্লেসমেন্টে (বিকল্প) পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় গত ২১ জুন নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে শিবির সভাপতি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপির দেশব্যাপী হত্যাকাণ্ডগুলো জনমনে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই ২১৯ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এই মারাত্মক আন্তঃকোন্দলের শিকার হয়ে হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, বেপরোয়া চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন এবং অনেকে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলিকপ্টারযোগে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসে নামেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এরপর তিনি নিহত সাইফুল্লাহ বারীর নিজ বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের গভীর সান্ত্বনা দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে ওই দিনের হামলায় গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তাদের হাতে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন তিনি।
কবর জিয়ারত ও পরিবারগুলোর সাথে সাক্ষাৎকালে শিবির সভাপতির সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মেডিকেল বিভাগের সভাপতি ডা. এস এম খালেদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেছ সরকার, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জেলা শিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আল কারযাভী এবং সেক্রেটারি মো. ফাহিম মন্ডলসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ গত ২১ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে সাঘাটার বোনারপাড়ায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ জানান। তাঁরা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মুকুলের ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। এই একই হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন বর্তমানে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



