রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর অফিসে গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা ওরফে ‘শ্যুটার বাপ্পি’সহ তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (১৮ জুলাই) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি জানান, গোপন তথ্য ও উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত শুক্রবার (১৭ ১৭ জুলাই) মতিঝিলের বিভিন্ন এলাকায় পরপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে দক্ষিণ কমলাপুর এলাকার এক পশুর হাটের ইজারাদার ব্যবসায়ীর কাছে একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দাবি করা চাঁদা না পেয়ে গত ১৯ মে ওই ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ, তবে দীর্ঘদিন তারা আত্মগোপনে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৭টায় মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় প্রথম অভিযানটি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে মূল অভিযুক্ত তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) এবং মো. মানিক কাজীকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মতিঝিলের উত্তর কমলাপুর এলাকায় দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে তানিম রেজা বাপ্পির নিজস্ব অফিসে একটি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেই অফিস থেকে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে নতুন করে পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, ‘তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি মতিঝিল এলাকার একজন চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এর আগেও বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে।’
পুলিশের রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তার এই শীর্ষ সন্ত্রাসী তানিম রেজা ওরফে বাপ্পির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে। মোহাম্মদ ওসমান গণি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারসহ উদ্ধার করা অবৈধ অস্ত্রের মূল উৎস উদ্ঘাটনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



