বলিউডের সাবেক অভিনেত্রী সানা খান জানিয়েছেন, মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে গভীর চিন্তা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। অভিনয়জগৎ ছেড়ে ধর্মীয় জীবন বেছে নেওয়ার পরও প্রায় প্রতি রাতে মৃত্যুর কথা ভেবে কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে এক পডকাস্টে জানিয়েছেন তিনি।
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় শোবিজ অঙ্গন ছেড়ে ধর্মীয় জীবন বেছে নেওয়ার ঘোষণা দেন সানা খান। এরপর থেকেই তিনি ব্যক্তিগত জীবন, ধর্মীয় অনুশীলন এবং পরিবারকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সানা বলেন, “প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি কাঁদি। কারণ আমি জানি না আমার শেষ পরিণতি কী হবে।” তবে তিনি নিজেকে অন্যদের চেয়ে বেশি ধার্মিক বা আধ্যাত্মিক মনে করেন না বলেও উল্লেখ করেন।
হিজাব পরার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সানা খান বলেন, এটি কারও চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরেই শালীন পোশাক ও হিজাবের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল। তিনি বলেন, “আমি হিজাবের সৌন্দর্যকে শ্রদ্ধা করি, তাই এই পথ বেছে নিয়েছি।”
বিনোদন অঙ্গনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই অভিনেত্রী বলেন, বিভিন্ন পার্টিতে এমন অনেক দম্পতিকে দেখেছেন, যারা একই অনুষ্ঠানে থেকেও আলাদা জীবনযাপন করতেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে নিজের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে।
সানা জানান, ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব সফরের পর তার জীবনে বড় ধরনের আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আসে। অর্থ, খ্যাতি ও বিলাসবহুল জীবন থাকা সত্ত্বেও তিনি মানসিক শান্তি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরপর আল্লাহর কাছে সঠিক পথনির্দেশনা ও হালাল জীবিকার জন্য দোয়া করেন।
তিনি বলেন, অর্থ ও খ্যাতি ছেড়ে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু নিজের ঈমান, বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করেননি।
ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার সময় কোরিওগ্রাফার মেলভিন লুইসের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন সানা খান। ২০২০ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, অভিনয়জগতে খ্যাতি ও অর্থ পেলেও সেটিই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। এরপর একই বছরের শেষ দিকে মুফতি আনাস সৈয়দকে বিয়ে করেন। বর্তমানে এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে।
২০০৫ সালে ‘ইয়ে হি হাই সোসাইটি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে সানা খানের। পরে **‘হাল্লা বোল’, ‘জয় হো’, ‘ওয়াজাহ তুম হো’ ও ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’**সহ একাধিক বলিউড সিনেমায় অভিনয় করেন। এছাড়া ‘বিগ বস’ ও ‘খতরো কে খিলাড়ি’ রিয়েলিটি শোতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।



