ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংসদ মার্গ ও আশপাশের এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপের পর সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং কয়েকজন সদস্যকে ধাওয়া দেয়।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার, একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এয়ারটেল, জিও ও ভি (Vi)-সহ বিভিন্ন টেলিকম অপারেটরকে নির্দিষ্ট এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে নির্দেশটি কোন সরকারি সংস্থা দিয়েছে, তা জানানো হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদেরও মাঠে নামানো হয়। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যেতে এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে নিরাপত্তার স্বার্থে ২২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত যন্তর মন্তরের দেড় কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।



