ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে পেপ গার্দিওলাকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। টানা তিনটি বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে বিশ্বের অন্যতম সফল এই স্প্যানিশ কোচকে আনতে আর্থিক কাঠামোতেও ব্যতিক্রম করতে প্রস্তুত তারা।
ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সম্প্রতি বার্সেলোনায় গিয়ে পেপ গার্দিওলার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এফআইজিসির সভাপতি জিওভান্নি মালাগোও নিশ্চিত করেছেন, ইতালির কোচের পদ নিয়ে ৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
গত মৌসুম শেষে দীর্ঘ এক দশক পর ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়েন গার্দিওলা। এরপর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন তাকে জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে প্রথম পছন্দের তালিকায় রেখেছে।
তবে গার্দিওলাকে দায়িত্ব দেওয়া সহজ হবে না। সম্প্রতি ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আপাতত কোচিংয়ে দ্রুত ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর তিনি ফুটবলের বাইরে নতুনভাবে জীবনকে উপভোগ করতে চান বলেও উল্লেখ করেন।
ইতালির সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনি এবং সাবেক তারকা মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোও সম্ভাব্য কোচের তালিকায় রয়েছেন। তবে গার্দিওলাকে আনতে প্রয়োজন হলে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন এফআইজিসি সভাপতি।
অন্যদিকে, ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির (সিওএনআই) সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিলিও বিদেশি কোচ নিয়োগের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, ইতালি জাতীয় দলের কোচ হওয়া উচিত একজন ইতালিয়ানেরই। বিদেশি কোচ নিয়োগ দিলে দেশের ঐতিহ্যবাহী কোচিং সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে তিনি ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি লিগ কাপ এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছেন।



