মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান মিয়া হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণ দেওগাঁও এলাকার মো. আওয়াবিন মিয়া এবং বরিশাল জেলার সারসী গ্রামের মো. সাগর মুন্সি। রায় ঘোষণার সময় আওয়াবিন মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও অপর আসামি সাগর মুন্সি পলাতক ছিলেন।
মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, নিহত সোহান মিয়া মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ফোর্ডনগর বিআরটি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি হ্যালোবাইক চালিয়ে পরিবারের আয়-রোজগারে সহায়তা করতেন।
২০২১ সালের ১৯ জুলাই সকালে হ্যালোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর দুপুরে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন সোহান। পরে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সিংগাইর উপজেলার খাসের চর বাজার থেকে ধল্লা বাজারগামী কাঁচা সড়কের পাশে গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে তার হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, হ্যালোবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সোহানকে হত্যা করা হয়েছিল। ঘটনার দিনই নিহতের মা লাইলী বেগম সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ জুলাই তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আবুল কালাম তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।



