যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, ভোরের দিকে ইরান থেকে জর্ডানের ভূখণ্ডের দিকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। পূর্বনির্ধারিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশেই ধ্বংস করা হয়।
পরে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র জর্ডানের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে কেশম দ্বীপে বাঙ্কার-বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে এক দম্পতি ও তাদের এক সন্তান নিহত এবং আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে বলে আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি।
কয়েক দিনের বিরতির পর বুধবার রাতে আবারও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা শুরু হয়। জর্ডানে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার জবাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ‘ভারী’ বিমান হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এর আগে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। একই সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই সংঘাতের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



